দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
তবে কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি আইআরজিসি। এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তারা ‘শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি’ প্রতিহত করেছে। যদিও এসব হামলার উৎস কোথা থেকে ছিল, তা স্পষ্ট করেনি দেশটি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
এই নতুন সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। গত তিন দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাল। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলা আত্মরক্ষার্থে চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের যে স্থাপনাটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সেখান থেকে পঞ্চম ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। ইরানি গণমাধ্যমও শহরের পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে।
সেন্টকম তাদের পদক্ষেপকে ‘পরিমিত, সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত’ বলে উল্লেখ করেছে। একইসঙ্গে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি সৃষ্টি করা চারটি ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসে হামলার উৎস হিসেবে ব্যবহৃত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে তেহরান।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে চাওয়া নৌযানে হামলার কথাও নিশ্চিত করেছিল। সেন্টকমের দাবি, এসব হামলা ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দিতেই’ চালানো হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে অর্থ আদায়কারী ইরানি সংস্থা ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই সংস্থাকে অর্থ প্রদানকারী জাহাজগুলোও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিশ্বের মোট তরলীকৃত গ্যাস ও জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। চলমান সংঘাতের কারণে ওই রুটে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেন, ইরান ‘চরম চাপে’ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে প্রয়োজনে আবারও বড় ধরনের হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প।
এমএস/